Affiliate MarketingBangla ArticlesBlogging TipsBusiness TipsDigital Marketing Tips

রিচ নাকি ইমপ্রেশন: কোনটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

রিচ নাকি ইমপ্রেশন: কোনটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

আপনি ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম বা গুগল অ্যাডওয়ার্ডে এড দেন। আপনি অবশ্যই রিচ ও ইম্প্রেশন নামক দুটো মেট্রিকের সামনাসামনি হয়েছেন। দুটোই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ খুবই দরকারি টার্ম।

কিন্তু সময়ে সময়ে আপনাকে একটির উপর আরেকটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। দুটোই খুব কাছাকাছি মানের হলেও এদের সংজ্ঞা আলাদা। আর, দুটোই আপনার এংগেজমেন্ট আর ভিজিবিলিটিতে দারুন প্রভাব ফেলে।

প্রথমেই জেনে নিই এদের পার্থক্য-

প্রতিদিন আপনি আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রীনের হাজার হাজার ছবি, ভিডিও, লেখা বা আরো অনেক কিছু দেখেন। দেখলেও, আপনি সবগুলোতে ক্লিক করেন না। স্ক্রল করে চলে যান। এখানেই আসে রিচ ও ইম্প্রেশন।
যেটাকে আমরা রিচ বলি সেটা হল ঠিক কতজন একটি কন্টেন্ট দেখেছেন, দেখেছেন মানে ক্লিক করে আপনার কন্টেন্টটি দেখেছেন।

আর ইম্প্রেশন হল কতজনের চোখের সামনে আপনার কন্টেন্ট স্ক্রল্ড হয়ে চলে গিয়েছে।
আপনার বিজ্ঞাপন ৪০০ জনের নিউজফিডে গিয়েছে, মানে ৪০০ ইম্প্রেশন। সেখানে ২০০ জন ক্লিক করা মানে ২০০ রিচ।

এর মধ্যে অনেকেই এংগেজমেন্ট জিনিসটা আবার বুঝেননা, এংগেজমেন্ট হল আপনার কন্টেন্টের টোটাল লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, ইনবক্স শেয়ার, বা পোস্ট সেইভ করে রাখা। আবার অনেকসময় কোন ইউজার যদি সময় নিয়ে একটা পোস্ট পড়ে সেটাও এংগেজমেন্ট হিসেবে কাউন্ট করা হয়।

যাই হোক, রিচ ও ইম্প্রেশনের মধ্যে ইম্প্রেশনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হবে সবসময়।

ফেসবুকের রিচ ও ইম্প্রেশন – ফেসবুকের রিচ মানে হচ্ছে আপনার বিজ্ঞাপন বা কন্টেন্ট কতজন ব্যবহারকারি কমপক্ষে একবার হলেও দেখেছেন।
ফেসবুকের রিচ তিন প্রকার – অর্গানিক, পেইড ও ভাইরাল। ভাইরালটা আমরা তেমন দেখি না।

অর্গানিক মানে হচ্ছে কতজন ব্যবহারকারি বিজ্ঞাপন ব্যতীত আপনার কন্টেন্টটি দেখেছেন।
পেইড মানে সোজা কথায় বুস্ট দিয়ে আপনি কতজন ব্যবহারকারিকে দেখাতে পেরেছেন, আর এর সাথে অডিয়েন্স টার্গেট, বাজেট, এবং টোটাল বিড জড়িত থাকে।
আর ভাইরাল রিচ হল আপনার পেজের ফলোয়ারদের বন্ধুদের মাধ্যমের যদি আপনার পোস্টে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার আসে।

ফেসবুকের ইম্প্রেশন হল একবার যদি একটা এড আপনার ফিডে দেখায় সেটাই কাউন্ট হবে। আপনি একটা এড দেখে নিচে নেমে যদি আবার উপরে স্ক্রল করেন, তবুও একবারই কাউন্ট হবে।ফেসবুকে একটা অ্যাডে দুইবার ইম্প্রেশন আনতে হলে একই অ্যাড একজন ইউজারের স্ক্রীনে ১ দিনের বিরতিতে দুইবার আসলেই হবে।

আপনি যদি চান আপনার অ্যাড ব্যবহারকারীরা দেখুক তাহলে Viewed Impression এ দেখবেন। একজন ইউজার যদি অ্যাডে ক্লিক না করে স্ক্রল করে চলে যায় তাহলে সেটা ইম্প্রেশনের কাউন্ট হবে, কিন্তু Viewed Impression এ কাউন্ট হবে না।

আবার , ভিডিও ভিউর ক্ষেত্রে ফেসবুকে নিয়ম অনুযায়ী ভিডিও শুরু না করলেও সেটা ইম্প্রেশন হিসেবে কাউন্ট হবে।
ফেসবুকের ইম্প্রেশন আরো ভালভাবে বোঝার জন্য আপনাকে Served Impression বুঝতে হবে।
Served Impression পেইড অ্যাডে দেখা যায়।

কোনটি আপনার জন্য কাজের?

একেক প্ল্যাটফর্মে রিচ আর ইম্প্রেশন একেকভাবে কাজ করে। পোস্ট বড় হয়ে যাবে বিধায় আমি শুধু ফেসবুক নিয়েই লিখলাম। টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, গুগল অ্যানালিটিক, গুগল অ্যাডওয়ার্ডস, স্ন্যাপচ্যাট, পিন্টারেস্টের মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি করার আগে আপনাকে সেইসব প্ল্যাটফর্মের রিচ আর ইম্প্রেশনের কাহিনী ধরতে পারলেই আপনার কাজ অনেকাংশে হয়ে যাবে।

যাই হোক, রিচ না ইম্প্রেশন, কোনটি আপনার জন্য দরকার? সত্যি কথা বলতে এর কোন সোজাসুজি উত্তর নেই, আপনাকে সব ঘেটেঘুটে আপনার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি সাজাতে হবে।

আপনার ইম্প্রেশনের উপর নজর রাখা উচিৎ হবে যদি আপনি আপনার বিজ্ঞাপনের গতিবিধি দেখতে চান। ইম্প্রেশনে আপনি লাইভ আপডেট পাবেন। আপনার সম্ভাব্য ক্রেতারা কিভাবে আপনার বিজ্ঞাপনকে নিচ্ছে সেটাও বুঝবেন।
যদি দেখেন ইম্প্রেশন খারাপ তাহলে হয় অ্যাডের কন্টেন্ট এডিট করবেন বা অডিয়েন্স টার্গেট চেঞ্জ করবেন।
একইভাবে রিচ হচ্ছে যারা সত্যিকারভাবে আপনার বিজ্ঞাপনে ক্লিক করেছে, বিজ্ঞাপনের কন্টেন্ট দেখেছে বা পড়েছে। দেখার পরেও যদি তাদের মধ্যে নূন্যতম ব্যবহারকারী ক্রেতাতে পরিণত হয়, তাহলে বস আপনাকে আপনাকে আবার সব ঢেলে সাজাতে হবে।

এখানে একটি জিনিস আপনি অবশ্যই খেয়াল করেছেন, রিচ আর ইম্প্রেশন দুটোই আপনার ব্যবসার জন্য গুরুত্ব রাখে। একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত।
ঠিক একইভাবে আপনি যদি আপনার এংগেজমেন্ট রেইট বাড়াতে চান, তাহলে ইম্প্রেশন আর রিচ বাড়ানোর চেষ্টা করুন, এই দুটো চেঞ্জ না করে কখনোই এংগেজমেন্ট বাড়ানো সম্ভব নয়।
এখানে এসেই রিচ আর ইম্প্রেশনের জল ঘোলা হয়ে যায়, আর এই ঘোলা জল পরিষ্কার করার একটাই উপায়, সেটা হল
কন্টেন্ট মেকিং, কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি, ও কন্টেন্ট মার্কেটিং

ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর উপায়-

রিচ আর ইম্প্রেশন সবসময়ই জটিল। ইম্প্রেশন সবসময় রিচের চেয়ে বেশি হবে। একজন ইউজার একটা অ্যাড দুইবার দেখলে সেটা একবার কাউন্ট হতে পারে, অথবার দুইবার।

ফেসবুকের অ্যাড ফ্রিকোয়েন্সি মানে হল আপনার একজন সম্ভাব্য ক্রেতা কতবার আপনার বিজ্ঞাপনটি দেখেছেন, এটা দেখার জন্য আপনার মোট রিচকে একজন ব্যবহারকারী গড় ইম্প্রেশন দিয়ে ভাগ করুন। এটা এখন দেখাও যায় ফেসবুকে, তাও কিছু জিনিস ম্যানুয়ালি করা ভাল।

এক্সপার্টরা বলেন, ইউজার প্রতি গড় ইম্প্রেশন ১ এর বেশি হওয়া ভাল, একজন ইউজারকে আপনার প্রোডাক্টের সাথে পরিচিত করতে চাইলে বারবার সেটা আপনাকে দেখাতে হবে, তারপর তারা আপনার কাস্টোমারে কনভার্ট হবে।

কিন্তু আমরা ৫ ডলার বুস্ট দিয়েই ভাবি, আমার সেলের পর সেল হবে!

এই মূহুর্তে ইকমার্সে সবচেয়ে বেশি ফেসবুকে অ্যাড দেয় চালডাল, যারা ফেসবুকের কম্পিটিটর রিসার্চ করবেন তারা একবার ফেসবুকের অ্যাড লাইব্রেরিটা একবার ঘুরে আসবেন।

তাই, অ্যাড ফ্রিকোয়েন্সির সঠিক মান বের করার জন্য আপনার কম্পিটিটরদের অ্যাড ফ্রিকোয়েন্সি দেখুন, আপনি তাদের চেয়ে বাড়িয়ে দিন।

আশা করি, এবার নিজেরা ইম্প্রেশন আর রিচ রিসার্চ করে নিজেরাই নিজেদের কাজ করতে পারবেন।

Source – Marketing clew

Related Articles

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!