Uncategorized

ফেসবুক মার্কেটিং কি? কেন করবেন? ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

ফেসবুক মার্কেটিং কি? কেন করবেন? ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের নাম ফেসবুক। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর প্রাই প্রতিটা দেশে এর জনপ্রিয়তা অনেক অনেক বেশী। ফেসবুকের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারির কাছে কোন প্রতিষ্ঠান, পন্য বা সেবার প্রচারণা করে দেয়াকেই ফেসবুক মার্কেটিং করে। এটি আপনি নিজে বা কোন ফেসবুক মার্কেটারের মাধ্যমেও করতে পারেন। সহজ অর্থে ফেসবুকে যে বিজ্ঞাপন দেয়া হয় তাকেই ফেসবুক মার্কেটিং বলে। যে কোন ধরণের বিজ্ঞাপন ই ফেসবুকে টাকার মাধ্যমে দেয়া যায়। এ ধরণের বিজ্ঞাপন সাধারণত আপনার ফেসবুক নিউজফিডে বিভিন্ন পন্যের স্পন্সরড পোষ্ট আসে এবং আপনার ফেসবুক এর ডান পাশে বিভিন্ন পন্যের ছবি বা অফার আসে আর এগুলকেই ফেসবুক বিজ্ঞাপন বলে।

ফেসবুক মার্কেটিং কেন করবেন ??

ফেসবুকের ইতিহাস এবং বর্তমান আমরা সবাই জানি। মার্ক জুকারবার্গ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৪ সালে ফেসবুক প্রথম যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরু করার পর ফেসবুকের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। ২০১৬ সালের জরিপ অনুস্বার ফেসবুকের মাসিক একটিভ ব্যবহার কারির সংখ্যা ১.৮৬ বিলিয়ন। প্রতিদিন ফেসবুক ইউজারের সংখ্যা ১.১৫ বিলিয়ন। মোবাইলে ফেসবুক ইউজ করে এমন ইউজারের সংখ্যা ১.৭৪ । ফেসবুকে প্রতিদিন ছবি আপলোড এর সংখ্যা ৩০০ মিলিয়ন। ফেসবুকে প্রতি ভিজিটরের এভারেজ টাইম স্পেন্ড ২০ মিনিট। প্রতি মিনিটে ৫,১০,০০০ কমেন্টস, ২,৯৩,০০০ স্ট্যাটাস এবং ১,৩৬,০০০ ছবি আপলোড হয়ে থাকে। ফেসবুকে ১৬ মিলিয়ন লোকাল বিজনেস পেজ তৈরি করা হয়েছে। ৪২ % ব্যবসায়ী মনে করেন ফেসবুক তাদের বিজনেসের প্রধান হাতিয়ার। ১৮-২৪ বছর বয়সী ব্যবহারকারীর মধ্য ৫০% ব্যবহারকারী ঘুম থেকে উঠেই ফেসবু ব্যবহার করে বা বলা যায় ফেসবুকে এসেই তাদের ঘুম ভাঙ্গে। এক প্রতিবেদনে বলা হয় ফেসবুক ব্যবহার কারি প্রতি বছর ১৭% হারে বাড়ে এবং এটি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

একটু চিন্তা করুন ২০১৭ সালে ফেসবুকের একটিভ ব্যবহারকারী ১৮৬ কোটি সেখানে হটস এপ এর ব্যবহারকারী ৫০ কোটি, টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৮ কোটি ৪০ লাখ সেখানে আপনি ফেসবুকে মার্কেটিং করবেন না তো কথায় করবেন। এত পরিমান কাস্টমার আপনি কোথায় পাবেন বিজ্ঞাপনের জন্য। ফেসবুকের অন্য যোগাযোগের মাধ্যম ইন্সটাগ্রাম এর ব্যবহারকারী ৬০ কোটি।

এখন আসুন এনালগ মার্কেটিং না করে ফেসবুকে মার্কেটিং করলে কি সুবধা পাবো তাই দেখি।

ব্যনার, সাইবোর্ড, বিলবোর্ড, ফেস্টুন, পেপার, রেডিও, বা টিভি বিজ্ঞাপন থেকে ফেসবুক বিজ্ঞাপন অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ কারণ – এতে কম খরচে অধিক ফল পাওয়া যায় । ফেসবুকের মাধ্যমে আপনি সর্বচ্চ পর্যায়ের মার্কেটিং করতে পারবেন।ফেসবুক মার্কেটিং করলে আপনি আপনার মার্কেটিং ফলাফল তাৎক্ষনিক চেক করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আপনার রানিং বিজ্ঞাপন বন্ধ করে নতুন ভাবে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। ফেসবুকের মার্কেটিং করলে আপনি আপনার ফলাফল পর্যালোচনা করতে পারবেন। ফেসবুকের বিজ্ঞাপন খরজ খুব ই কম।বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশেষ করে ফেসবুকের ব্যাপক প্রসারের কারণে প্রায় সব মানুষ ই একে অপরের সাথে যুক্ত তাই আপনি অতি সহজেই আপনার একটি বার্তা অন্যর নিকট পৌঁছে দিতে পারবেন। সরকারি-বেসরকারি ছোট , বড় কিংবা স্টার্টআপ সকল প্রতিষ্ঠানের জন্যই অনলাইন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ফলে সবার জন্যই প্রচারণা বর্তমান সময়ে ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । ফেসবুকের বিজ্ঞাপনে আপনার আসার সবথেকে বড় কারণ হতে পারে কমসময়ে কম খরজে অধিক প্রচার সম্ভাবনা। আপনি একজন ছোট ব্যবসায়ী বা একটি বৃহৎ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী যাই হোন না কেন, গ্রাহক ধরে রাখার জন্য বা ব্র্যান্ডের প্রচার প্রচারণা বাড়ানোর জন্য এবং আপনার ব্যবসার বিস্তৃতি বাড়ানোর জন্য ফেসবুক হলো একটি মূল্যবান মার্কেটিং মাধ্যম যেখানে আপনি সব লেভেল থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের কাছে আপনার বার্তা পাঠাতে পারবেন। কোন ব্রান্ড সৃষ্টির জন্য ফেসবুক মার্কেটিং এর বিকল্প নেই।

ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে করবেন??

আমরা এতক্ষণ ফেসবুক মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম এবার আমরা কিভাবে মার্কেটিং করতে পারব এ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করবো এবং সামনে আমরা বিস্তারিত এ বিষয়ে আলোচনা করবো। আমি ফেসবুক মার্কেটিং কে ২ ভাগে ভাগ করেছি। প্রথমটি পেইড ছাড়া বা স্বতন্ত্র দ্বিতীয়টি পেইড বা মার্কেটারের সাহায্য করতে পারেন।

স্বতন্ত্র বা পেইড ছাড়া মার্কেটিং

আপনি যখন নিজে নিজেই ফেসবুকে মার্কেটিং শুরু করবেন তখন তাকে স্বতন্ত্র মার্কেটিং বলে। এধরণের মার্কেটিং এ আপনি আপনার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেই করতে পারবেন । এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ আপনি যদি নিজে মার্কেটিং করতে চান তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টটি হতে হবে ষ্ট্যাণ্ডার্ড। সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষ অপরিচিত কাওকেই সহজে বিশ্বাস করতে চায় না আর যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে মানুষ কোন কারনেই তার কোন কথা বা তার কাছ থেকে কিছুই শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করবে না।আপনার নিজের এই পরিচিতি বাড়াতে হলে আপনাকে কিছু অবশ্যই করতে হবে আর এ উদ্দেশ্য আপনাকে নিয়মিত একটিভ থাকতে হবে এবং বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল বা ভিডিও শেয়ার করতে হবে এতে করে তাদের সাথে আপনার একটা যোগাযোগ তৈরী হবে। এভাবে নিয়মিত যোগাযোগ পোস্ট কমেন্ট এর মাধ্যমে আপনি সবার বিশ্বাস যোগ্য হয়ে উঠতে পারবেন। ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য কিভাবে একটি ষ্ট্যাণ্ডার্ড অ্যাকাউন্ট করবেন সে বিষয়ে এখন আপনাদের জানাবো।

এখানে আপনাকে প্রথমেই তৈরী করতে হবে একটি ভালো ফেইসবুক প্রোফাইল। ফেসবুকে যাবতীয় ইনফরমেশন দিয়ে সুন্দর একটা প্রোফাইল পিকচার দিয়ে একটি একাউন্ট প্রস্তুত করুন। কোন প্রকার ভুল ইনফরমেশন না দিয়ে প্রোফাইল প্রস্তুত করুন। একটি ভালো মানের অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য আপনার অ্যাকাউন্টটি সাজানো গোছানো হতে হবে। চেষ্টা করুন নিজেকে স্পেশাল করতে তাহলেই সহজে সবার কাছে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারবেন। এবার আপনাকে ফ্রেন্ড যুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে। আপনি এমন কোন ফ্রেন্ড কে এড করবেন না যে নিজেও একজন মার্কেটার, তাহলে দেখা যাবে যে আপনি যে মার্কেটিং করছেন তা কোন কাজেই আসছে না। তাই আপনাকে ফ্রেন্ড অ্যাড করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এবার আপনাকে আসল কাজে নামতে হবে। আপনাকে সবার মধ্য গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে আর সে লক্ষ্য আপনাকে নিয়মিত পোস্ট, কমেন্ট ইত্যাদি করার মাধ্যমে নিজেকে পরিচিত করে তুলবেন। সময়ের সাথে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট কন্টেন্ট তৈরি করে পোস্ট করুন। মজাদার কার্টুন, পোস্ট শেয়ার করে একটিভ থাকুন। আপনি যে বিষয়ে মার্কেটিং করবেন সেই বিষয় সম্পর্কে ভালো মন্দ লেখার চেষ্টা করুন এতে করে আপনার একটা ভালো প্রোফাইল তৈরি হবে। চেষ্টা করুন নিজেকে এ বিষয়ে দক্ষ প্রকাশ করার তাতে করে মানুষ আপনার কাছে সাহায্য এমনিতে চাইবে এবং আপনার মার্কেটিং এর সময় ভালো সাপোর্ট পাবেন। চেষ্টা করুন সবার প্রশ্নের জবাব দিতে এতে করে আপনার স্বচ্ছতা তৈরি হবে। চেষ্টা করুন গ্রুপ খুলে এ বিষয়ে আলোচনা করতে, নিজের গ্রুপকে আলচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তৈরি করুন এতে করে আপনি এখানেও আপনার মার্কেটিং করেতে পারবেন। যে কোন বিষয়ে প্রচারনা করার জন্য আপনাকে কৌশলী হতে হবে এবং আপনাকে সেই কৌশল এর ব্যাবহার করে মার্কেটিং করতে হবে। ডিরেক্ট মার্কেটিং করা থেকে বিরত থাকুন এতে করে আপনার প্রতি তাদের ভালো মনোভাব তৈরি হবে। বিভিন্ন গ্রুপ বা আলচনাতেও আপনার মার্কেটিং করুন কৌশলের সাহায্য।

এছাড়া আপনি পেইড মার্কেটিং করতে পারেন বিভিন্ন মার্কেটারের সাহায্য বা আপনি নিজেও ও পেইড মার্কেটিং করতে পারেন। পেইড মার্কেটিং একটি অনেক বড় মার্কেটিং স্টার্টেজি , এখানে আপনাকে মার্কেটিং করে সফল হতে হলে অনেক বিষয় সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে। তাছাড়া আমাদের দেশে ডলার সিস্টেমের ঝামেলার কারনেও পেইড মার্কেটিং করা সম্ভব হয় না। তাই যদি আপনার মাস্টার কার্ড না থাকে আর এ বিষয়ে বেশী এক্সপার্ট না হন তবে মার্কেটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করুন।

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close
error: Alert: Content is protected !!