Article Writing TipsBangla ArticlesDigital Marketing TipsE-Commerce Tips & tricks

কপিরাইটিংঃ বিক্রি বাড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার

কপিরাইটিংঃ বিক্রি বাড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার।

ইন্টারনেটে এই গল্পটা অনেক চলে, এক ভিক্ষুক ‘আমি অন্ধ’ প্ল্যাকার্ডে লিখে ভিক্ষা করছিল । কিন্তু, কেউ তাকে ভিক্ষা দিচ্ছিল না। এক লোক এসে, প্ল্যাকার্ডে লিখে দিল, ‘আজকের সকালটা অনেক সুন্দর, আফসোস আমি তা দেখতে পারছি না’’ এতে ঐ ভিক্ষুকের আয়ের পরিমাণ গেল বেড়ে।

সেই সম্মানিত লোক, কি করল জানেন? লোকটি কপিরাইট করল। যা ভিক্ষুকের কনভার্সন রেইট যারপরনাই বাড়িয়ে দিল।

কপিরাইটিং টার্মটার সাথে আমরা অনেকে পরিচিত, আবার অনেকেই পরিচিত না। আমি প্রথম দেখায় অনেককেই দেখেছি কপিরাইটিংকে আইনের Copyright শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেলতে।

এটি হচ্ছে আসলে Copywriting, এর মানে হচ্ছে সোজা বাংলায় বিজ্ঞাপন লেখা। আমরা প্রতিটা বিজ্ঞাপনের সাথে যে লেখা, ছবি, বা ভিডিও দেখি তার সবই কপিরাইটিং এর অংশ। বিভিন্ন মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের আমরা চোখ ধাঁধানো লেখা বা ছবি দেখি, যা থেকে চোখ সরানো খুবই কঠিন। এগুলো সবই কপিরাইটিং এর অংশ।

বিভিন্ন পেজে, বা বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে আমরা মার্কেটারদের বিভিন্ন অকেইশনে একেকরকম মার্কেটিং দেখে থাকি, আমরা সেগুলো দেখে হাসি বা অবাক হই। আর এটা ভাবি যে, তাদের মাথায় কত বুদ্ধি। এই বুদ্ধিগুলো পুরোটাই আসে কপিরাইটারদের মাথা থেকে।

অনেক গবেষণা ও চিন্তার ফসল একেকটি বিজ্ঞাপনের কপি। আমরা জানিও না এটি পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ বেতনের চাকরি। এবং এই চাকরির জন্য আপনার হার্ভার্ড বা অক্সফোর্ডের ডিগ্রীর কোন প্রয়োজন নেই।

শুধুই দরকার পণ্যেকে সুন্দরভাবে ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপনের দক্ষতা।

কোথায় নেই কপিরাইটিং? মার্কেটিং এর প্রতিটা কাজে বলতে গেলে কপিরাইটিং এর দরকার।

ইমেইল মার্কেটিং, ফেসবুক মার্কেটিং, কোল্ড রিচ, ভাইরাল মার্কেটিং, এমনিকি ৫০০০ শব্দের একটি আর্টিকেলেও আপনাকে ফলাতে হবে কপিরাইটিং এর দক্ষতা।

Buy Instagram Service’s

Eugene Shwartz পৃথিবীর অন্যতম সেরা একজন বিজ্ঞাপন লেখক। প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যের উপর একটি বইয়ের বিজ্ঞাপন লেখার জন্য তাকে ৫০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়। এবার বুঝে নেন, যদি আপনি তার দক্ষতার ১ শতাংশও অর্জন করতে পারেন!

কপিরাইটিং খুবই শক্তিশালী একটি জিনিস। দোকানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া সবচেয়ে উদাসীন মানুষটাকেও আপনি ক্রেতাতে পরিণত করতে পারেন যদি আপনি কপিরাইটিং এর কাজটা ঠিকমত করেন।

ক্রেতাদের দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া আপনার পণ্য নিয়ে কণ্টকাকীর্ণ সমস্যাটি খুঁজে বের করা, তাদের আকাঙ্খাকে বোঝা, আর সেই সাথে এর একটি উপযুক্ত সমাধান বের করাই হচ্ছে কপিরাইটিং।

শুনতে কঠিন মনে হলেও, আপনি যদি এর পদ্ধতিগুলো জানেন, তাহলে এটি নিতান্তই ছেলের হাতে মোয়া। এর জন্য আপনাকে গবেষণা দক্ষতা থাকতে হবে প্রচুর, বাজার বিশ্লেষণ, ট্রেন্ড, মানুষের বয়স ও চাহিদা অনুসারে তাদের আচার-আচরণ, সামাজিক অবস্থান, ও নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার মিশ্রনের তৈরী হয় এক অসাধারণ বিজ্ঞাপন।

বেশিরভাগ বিজ্ঞাপন লেখকের মতে কপিরাইটিং হল ৮০% গবেষণা ও ২০% লিখা।

তো কিভাবে লিখবেন?

আমি নিজেও এই দক্ষতা অর্জন থেকে এখনো হাজার মাইল দূরে আছি। তবুও এতদিনের অভিজ্ঞতায় ও পড়াশোনায় আমার জানা ও শেখা প্রক্রিয়াগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

ক্রেতার আকাঙ্ক্ষা বোঝা-

কন্টেন্ট রাইটিং এর একদম শুরুতে আমি আমার ইচ্ছামত টপিক নিয়ে লিখতাম, ভাবতাম লোকে বোধহয় এই জিনিস পছন্দ করবে। এত জোস লেখা ইগ্নোর করতেই পারবে না। তখনও আমি কী ওয়ার্ড রিসার্চ, এল এস আই, অন্টোলজি আর এন্টাইটি এসব নিয়ে তেমন কিছু জানি না।

লিখার পর দেখলাম, আমার ক্লায়েন্টের সাইটে ওই আর্টিকেলে তেমন কোন ট্রাফিক নেই। ক্লায়েন্ট আমার মেন্টর ছিল, প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জনের জন্যই আমাকে তিনি লিখতে দিয়েছিলেন। তাই সমস্যা হয় নি।

যাই হোক, ট্রাফিক কেন নেই? আমার এত জোস লেখা আর্টিকেলটা মানুষ একবার পড়েও দেখল না!!!

কারণ, আমি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিই নি। মানুষ যা চায়, আমি তা দিই নি।

গ্রাহকের Pain Point আছে। এর সঠিক বাংলা আমার জানা নেই বলে আমি ইংরেজি শব্দই ব্যবহার করব।

তো পেইন পয়েন্ট কি? যেমন- পাঠাওতে টাকা পরিশোধের সময় ভাংতি সমস্যা ছিল প্রকট। রাইডার বা ইউজার বেশিরভাগ বেশিরভাগ সময় ছাড় দিলেও তাদের মনে একটু হলেও কষ্ট আছে।

এই আগুনের বাজারে ১ টাকাও অনেক বড় জিনিস। এই ভাংতি সমস্যাটা হল তাদের পেইন পয়েন্ট।

এরপর পাঠাও বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে আসে। নিমিষেই সমস্যার সমাধান। পরে তারা বাদ দেয় কেন জানি না। এখন শুনলাম উবারও নিয়ে এসেছে।

একজন কপিরাইটার হিসেবে আপনাকে আপনার ক্রেতার পেইন পয়েন্ট বুঝতে হবে।

এই পেইন পয়েন্ট হল মানুষের মনে লুকিয়ে থাকা সমস্যা। আপনাকে সেটা বুঝতে হবে। আপনি যদি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনার দোকানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া লোককে ক্রেতাতে পরিণত করতে চান, ফেসবুকে উদ্দেশ্যহীনভাবে স্ক্রল করা লোককে যদি আপনার পণ্য কিনাতে চান, আপনাকে তাদের পেইন পয়েন্ট বুঝতে হবে।

প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে সমস্যাটা কি, আর কি সেই সমাধান। এটা বের করতে পারলেই আপনি তাদের আকাঙ্ক্ষাকে ধরতে পারবেন। সমস্যাটাই পেইন পয়েন্ট, আর সমাধানই আকাঙ্খা।
পেইন পয়েন্ট না থাকলে সেখানে কোন আকাঙ্ক্ষাও নেই। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
আরো সহজে বলি, উবারের সাবেক সি ই ও, অফিস থেকে বের হয়ে দেখেন অনেক মানুষ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পায় না, অথচ একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে একজন লোক যায়।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা আমরা সবাই ভেবেছি, আচ্ছা এই বাইকটাতে আমাকে নিয়ে গেলে কি হয়? বা এই গাড়িতেতো আমরা ২ জন শেয়ারে যেতে পারি, আমরা না হয় ভাড়া দিলাম, বা সে গাড়ির মালিকও হয়ত ভেবেছেন, যে এত বড় গাড়িটা একা টেনে নিয়ে যাওয়ার চাইতে রাস্তা থেকে কাউকে তুলে নিই, সে ভাড়া দিবে, এতে তেল খরচ উঠে এসে দু-পয়সা রোজগারও হল।

এত লোকের ভাবনা উবারের সাবেক সি ই ও ট্র্যাভিস কালানিক সাহেব ভেবেছিলেন, আর বাকিটা আমরা জানি।
একটি শক্তিশালী বিজ্ঞাপন লেখার আগে আপনি নিজেকে একটি সহজ প্রশ্ন করুন। এই পণ্য বা সেবা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা কি? মাথাব্যথা নেই এমন পণ্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

ক্রেতাদের প্রধান সমস্যা খুঁজে বের করে তার সমাধানকে আকর্ষণীয় উপায়ে সেটা বিজ্ঞাপনের লিখে দেয়াই হল কপিরাইটিং এর একমাত্র কাজ।

পৃথিবীর মানুষের একটাই আকাঙ্ক্ষা, সেটা হল সমস্যাকে এড়িয়ে চলা।
এই সমস্যাকে এড়িয়ে চলার উপর ভিত্তি করেই আজকে পৃথিবীর অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত।
এই লেখা এতক্ষণ কেউ যদি পড়ে থাকেন, তাহলে তাদের বেশিরভাগের সমস্যা হল আপনার বিক্রি কম, আপনি চান আপনার বিক্রি বাড়ুক।

ম্যাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব-

ম্যাসলোর এই তত্ত্বের কথা আমরা স্কুল জীবনে সাইন্স-কমার্স-আর্টসে থাকা সবাইই পড়েছি বলতে গেলে।
আমাদের জীবনের চাহিদা বিভিন্ন ধাপে এসে পরিবর্তিত হয়। আমরা উপরের স্তরের চাহিদার আগে নিম্নস্তরের চাহিদার পূর্ণতা চাই।

আপনি ম্যাসলোর চাহিদা সোপানের মাধ্যমে আপনার ক্রেতার পণ্য চাহিদার তীব্রতার স্তরকে বাড়াতে পারেন। আইফোন যখন প্রথম দেশের হাল আমলের বড়লোক ছেলেদের হাতে আসে, তখন আমাদের হাতে থাকা ফিচার ফোনওয়ালাদের কথা একবার মনে করলেই বুঝবেন।

আপনার চাহিদা ও পণ্য চাহিদা সোপানে যতই নিচে থাকবে, ততই কড়া মোটিভেশন দিতে হবে। আইফোন কেনার জন্য টাকাওয়ালাদের মোটিভেশন দিতে হয় না। কিন্তু গরিবের আই ফোন কেনার জন্য আমাদের অনেক ঠেলতে হয়। নাম বললে আবার কে কি ভাবে!!!

আর আমাদের দেশে মোটিভেশন সেমিনারে কারা দর্শক সারিতে বেশিরভাগ থাকেন, জানেনইতো। আমি কোটিপতি ছেলেকে কখনো এদের দর্শক সারিতে দেখি নি।

আমার এক পরিচিত ছেলে ফোরেক্স ট্রেডিং করে এখন কোটির ঘরে দুই অংকে। তাকে মোটিভেশনাল সেমিনারে বক্তাদের নাম বললে বলে, ‘এরা আবার কে?’

তাই। কপি লিখার আগে আপনাকে রিসার্চ করতে হবে। Eugene সাহেবতো বলেছেনই রিসার্চ ৮০% আর লিখা ২০%। তাই আগে রিসার্চ করুন। ক্রেতার জন্য ভাবুন, আপনার জন্য না।

আমি কন্টেন্ট রাইটিং এর প্রথমে ব্যর্থ হয়েছিলাম, আমি গুগল সার্চকে পাত্তা দিই নি। মানুষ যা চায় আমি তার বাইরে গিয়ে লিখেছিলাম।

তাই বিজ্ঞাপনের সাথে আপনার ক্রেতাকে মাথায় রাখুন। তা না হলে বিজ্ঞাপন ভাল লিখবেন, দোকানের গুড় পিপড়ায় খাবে।

আগামী লেখায় বিজ্ঞাপনে শব্দের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করব, ইন শা আল্লাহ।

source – marketing clew

Related Articles

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!