img
কিভাবে আপনার ফেসবুক রিচ বৃদ্ধি করবেন !

কিভাবে আপনার ফেসবুক রিচ বৃদ্ধি করবেন !

October 18, 2018

কিভাবে আপনার ফেসবুক রিচ বৃদ্ধি করবেন !

 

ফেসবুক রিচ কমে যাওয়ার প্রভাব কি আপনার ফেসবুক মার্কেটিং এ পড়ছে?

আপনি কি ফেসবুক রিচ বাড়ানোর উপায় খুঁজছেন?

ফেসবুকে অর্গানিক রিচ করা তুলনামূলক কঠিন এবং মার্কেটারগণ ও এমন নতুন উপায়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে যায় ফলে তাদের বার্তা সহজে পৌঁছে।

ফেসবুক অর্গানিক রিচ সম্পর্কে

২০১২ এর দিকে ফেসবুকে অর্গানিক রিচ মোটামুটি থাকলেও দিন দিন তা হ্রাস পেয়ে চলছে।এটা শুনলে হয়ত আপনি আশ্চর্য হতে পাড়েন যে,অনেক বেশী ফেসবুক ফ্যান থাকা সত্ত্বেও এটি খুব একটা উপকারী নয় এক সময় যেমন ছিল।

৫ লাখের মত লাইক বিশিষ্ট বড় বড় ব্র্যান্ডের পেজ গুলোতেও অর্গানিক রিচ যথেষ্ট কম।(২% মাত্র)

৬০ মিলিয়নেরও বেশী বিজনেস পেজের একটি করে ফেসবুক পেজ রয়েছে।যেখানে শুধুমাত্র ৪ মিলিয়ন একটিভ বিজ্ঞাপনদাতা।

অনেক বিজনেস এখনও ২০১২ পূর্বকালীন ধারণায় আটকে আছেন।তারা মনে করছেন তারা যদি নিয়মিত পোস্ট করেন তবে তবে অর্গানিক রিচ পূর্বের মত বৃদ্ধি পাবে।তবে বাস্তবে এটি হচ্ছেনা।তবে আশার কথা হচ্ছে আপনি কৌশল ও চেষ্টার মাধ্যমে অর্গানিক রিচ বৃদ্ধি করতে পারেন ।

মনো্যোগ আকৃষ্ট করতে ও শেয়ার করতে কনটেন্ট নিখুঁত করে তুলুন-

কনটেন্ট গুলো এমন ভাবে তৈরি করুন যেন মানুষ শেয়ার করতে বাধ্য হয়।ফেসবুক স্কল করার সময় আপনার কনটেন্ট যেন তাদের চোখ থামায় এবং পড়তে বাধ্য করে।এবং তৎক্ষণাৎ ভাবে সেটি শেয়ার করে।

ফেসবুকে যখন আপনার পোস্ট বেশী লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করা হবে তখন ফেসবুক রিচ বৃদ্ধি পাবে।ফেসবুক এক্টিভ বিজ্ঞাপনদাতা ও যেসব কনটেন্ট বেশি সম্পৃক্ত হয় তাদের পুরস্কৃত করে।এটি অর্গানিক এবং পেইড রিচ দুটির ক্ষেত্রেই হয়।

আমার একটি পছন্দের উদাহরণ ফটোবুক প্রকাশনী কোম্পানির ভিডিওটি।কোম্পানিটি একটি এজেন্সি ও প্রফেশনাল অভিনয় শিল্পী কে ভাড়া করেছে।এর ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও বেশী হয়েছে।৬৩ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। ১৫০,০০০ সংখ্যক ফেনের পেইজে এটি নিতান্তই কম নয়।(অক্টোবর ২০১৬ হতে ভিডিওটি পোস্ট করার পর এর বৃদ্ধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।)

এটি সর্বাধিক শেয়ারের ভিডিওয়ের সবচেয়ে ভাল উদাহরণ।আপনার জন্য এটি একটি ভাল দিন হবে যখন আপনার দর্শক এবং তাদের বন্ধুরা আপনার ভিডিও বিজ্ঞাপন শেয়ার করবে।এটি অর্গানিক এবং পেইড দুই ভাবেই ফেসবুক রিচ বাড়াতে সহায়ক হবে।

ভিডিওটি শেয়ার করার সময় থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ব্যাপকভাবে দর্শকের মনোযোগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। তারা একই ভিডিও তাদের ইউটিউব চ্যানেলেও প্রকাশ করেছে যেখানে ৬ মিনিয়ন দর্শক ছিল।

আপনি যখন পোস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করবেন কল টু একশন দেওয়া হ্রাস করবেন।মিশ্র ধরণের কনটেন্ট তৈরি করুন যাতে প্রমোশনাল এড মূল্য,শিক্ষামূলক এবং বিনোদনমূলক উপাদান থাকবে।

এড দ্বারা পোস্ট প্রমোট করার পূর্বে অর্গানিক traction বৃদ্ধি করুন-

আপনার পেইড পোস্টের থেকে অধিক মুনাফা অর্জনে পোস্টটি ২৪ ঘন্টা পর বুস্ট করুন।এই সময়ের মধ্যে এটি কিছু অর্গানিক traction অর্জন করবে।

কিছু উপায় আছে যার মাধ্যমে আপনার ফেসবুক রিচ বৃদ্ধি পেতে পারে-

আপনার কনটেন্ট কিভাবে দর্শকের নিকট আকৃষ্ট করা যায় ও শেয়ার বৃদ্ধি পায় সেই সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেওয়া হল-

লাইভ ভিডিও পোস্ট করা-

লিখা এবং ছবির চেয়ে ভিডিও পোস্টে ফেসবুকে ৩ গুন বেশি সম্পৃক্ততা থাকে।এবং ১২০০ শতাংশ বেশি শেয়ার হয়।আপনার ভিডিও এর মাধ্যমে বেশি দর্শক রিচ করতে পারবেন।

মনে রাখবেন,ফেসবুক নিউজ ফিড এখন তুলমামূলক বড় ভিডিও গুলো গ্রহন করছে।তবে কত বড় তার সঠিক সংজ্ঞায়ন নেই। ১৫-২০ মিনিট অথবা তার চেয়ে বেশি আপনি যদি চান।

মিশ্র ধরণের পোস্ট ব্যবহার করুন-

আপনি ফেসবুকে বিভিন্ন ধরণের পোস্ট ব্যবহার করতে পারেন।ভিডিও,স্লাইড,ছবি এবং লেখার মাধ্যমে।কেউ হয়ত আপনার লিখা শেয়ার করতে পছন্দ করছে আবার কেউ ছবি শেয়ার করতে।তাই বিভিন্ন ধরণের পোস্ট ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন আগ্রহের দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারবেন।

জনপ্রিয় পোস্ট গুলো পুনরায় পোস্ট করুন-

আপনার যে পোস্ট গুলো জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে সেগুলো চিহ্নিত করুন।তারপর এগুলো পুনরায় পোস্ট করুন যারা প্রথমবার দেখতে পায়নি তারা যেন দেখতে পায়।

অর্গানিক অডিয়েন্স টার্গেট করুন-

আপনার কনটেন্ট যদি এমন ধরণের হয় যা নিদির্ষ্ট কিছু মানুষকে আকৃষ্ট করবে তাহলে ‘Facebook audience optimize tool’এর মাধ্যমে সেই ধরণের অডিয়েন্স নির্বাচন করুন। ফেসবুকে এটি নির্বাচন করতে আপনার পেজের ‘Targeting icon’ ক্লিক করুন।পোস্ট করার পর কত অডিয়েন্স পোস্টটি দেখছে সেটি খেয়াল করুন।

পোস্টে প্রাসঙ্গিক পেজ ট্যাগ করুন-

আপনার পোস্টের কনটেন্টটি যদি অন্য কোন প্রমোশনাল বিজনেস পেজকে নির্দেশ করে আপনার পোস্টের বর্ণনায় সেই পেজকে ট্যাগ করুন।তাহলে আপনার পোস্টটি অন্যান্য বিজনেস পেজেও দৃশ্যমান হবে এতে করে পোস্ট শেয়ার সংখ্যা বাড়বে এবং বেশি সংখ্যক অডিয়েন্স এর নিকট পৌঁছাবে।

অফ প্ল্যাটফর্ম সোর্স হতে traffic সংগ্রহ করুন-

আপনি যদি ফেসবুক পোস্ট আপনার ব্লগ বা অন্য কোন লিংকের মাধ্যমে দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার ফেসবুক রিচ বৃদ্ধি পাবে।আপনি আপনার পোস্ট এবং ভিডিও আপনার ব্লগে দিতে পারেন।

আপনার ব্লগ,ইমেইল ফুটার বা অন্য ওয়েবসাইটে আপনার পোস্টের লিংক দিতে পারেন এতে করে যারা পোস্টটি দেখেনি তাদের দেখার সুযোগ তৈরি হবে।

ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ হতে পোস্ট দিবেন-

আপনার যদি অনেক বড় বিজনেস হয় তাহলে আপনার পেজে ব্লু চেক মার্ক ভেরিফিকেশন ব্যবহার করুন।এটি আপনার পেইজের বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন বৃদ্ধি করবে সেই সাথে সার্চ রেজাল্টে ও আপনার পেইজ গুরুত্ব পাবে।

অথবা আপনার লোকাল বিজনেস হলে গ্রে চেক মার্ক ব্যবহার করতে পারেন।এটিও সমান সুবিধে প্রদান করবে।

পোস্টের ব্যাপারে কিছু পরামর্শ-

দৈর্ঘ্য-সকলে একই সাইজের পোস্ট পছন্দ করেনা।ভিডিও পোস্টের সময় পূর্বের কোন সাইজের ভিডিও গুলো সর্বাধিক অর্গানিক রিচ করেছে সেটি নির্ধারণ করুন।এটি আপনাকে বলে দেবে আপনার অডিয়েন্স সংক্ষিপ্ত অথবা দীর্ঘ কোন সাইজের ভিডিও পছন্দ করে।

সময়-কখন আপনার অডিয়েন্স ফ্রি থাকেন সেই অনুসারে পোস্টের সময় নির্ধারণ করুন যাতে আপনার অডিয়েন্সের শেয়ার করার মত সময় থাকে।

ফ্রিকুয়েন্সি-ঘন ঘন পোস্ট করতে থাকলে অডিয়েন্স বিরক্ত হবে এবং এড়িয়ে যাবে।তাই কিছু সময় পর পর পোস্ট করবেন।

অডিয়েন্সের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা-

আপনার অডিয়েন্সকে সম্পৃক্ত করার জন্য সকল ধরণের সম্ভাব্য উপায় অনুসরণ করবেন।আলাদা করে ব্যাক্তিগত ভাবে সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা হলে এটি সোশ্যাল মিডিয়াতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।যখন কেউ আপনার পোস্টে কমেন্ট করে এর মানে হল তারা যোগাযোগে আগ্রহী তাই সকল কমেন্টের রিপ্লাই করা অত্যাবশ্যক।

এছাড়া যারা আপনার পোস্ট শেয়ার করছে তাতে লাইক অথবা লাভ রিয়েক্ট দিন।যাতে তারা বুঝতে পারে যে তাদের উৎসাহিত করছেন।

মনে রাখবেন,ফেসবুক যে পোস্ট গুলোয় অনেক বেশী সম্পৃক্ততা থাকে তাকে পুরস্কৃত করা হয়।

আপনার পেইড প্রমোশনের সাথে অর্গানিক রিচ বৃদ্ধি করুন-

আপনি কোন পোস্ট গুলোকে বুস্ট করবেন সেই ক্ষেত্রে কিছু কৌশল অনুসরণ করুন।যেমন কিছু পোস্টের ক্ষেত্রে আপনার উদ্দেশ্য হতে পারে সচেতনতা তৈরি করা।,ভিডিও ভিউয়ার ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা।অন্য পোস্ট গুলোতে আপনি সেগুলো কোন লিংক দ্বারা প্রমোট করতে চান যেন আপনার ওয়েবসাইটে traffic বৃদ্ধি পায়।

আপনার পোস্ট নির্বাচন করার আপনার বাজেট কিভাবে বন্টন করবেন সেটি নির্ধারন করুন।ভাল ফলাফলের জন্য আপনার বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দিন।কেবল একটি পোস্ট বা বিজ্ঞাপনে সমস্ত বাজেট খরচ করবেন না।

উদাহরণস্বরুপ বলা যায়,আপনার ৩০০ ডলার বাজেট রয়েছে কোন একটি নির্দিষ্ট পোস্টের বরাদ্দ হিসেবে।প্রথমে ১০০ ডলার দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করুন পোস্ট প্রমোট করতে।আপনার পোস্টে যদি আপনার ওয়েবসাইটের লিংক থাকে তবে আপনার উদ্দেশ্য হবে traffic অর্জন করা।আর যদি ভিডিও হয় তবে তাহলে উদ্দেশ্য হবে video views । আপনার বিজ্ঞাপন ২ অথবা ৩ দিনের জন্য চলতে দিন তারপর ১ অথবা ২ দিনের জন্য একে বন্ধ রাখুন।পরবর্তীতে ১০০ ডলারে ভিন্ন বিজ্ঞাপন তৈরি করুন এবং একই নিয়ম অনুসরণ করুন।সর্বশেষ ১০০ ডলার দিয়ে পুনরায় এই নিয়মটি অনুসরণ করুন।

এর একটি ভাল উদাহরণ হতে পারে ফিটনেস এক্সফার্ট Bree Argetsinger এর signature ব্লগ পোস্ট যা তিনি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।এই ফেসবুক পোস্টটি প্রমোট করতে তিনি এর মধ্যে বাজেট যুক্ত করেছেন তার ব্লগ পোস্টের এর traffic জন্য।

যদিও Betty Rocker ব্লগ পোস্ট ২০১৫ তে লিখা হয়েছিল কিন্তু এর সফলতার ধারা অব্যাহত ছিল.২৯০০ এর অধিক শেয়ার হয়েছিল।

উপসংহার

উপরের বর্ণিত পরামর্শ সমূহ আপনার ফেসবুক পোস্টের অর্গানিক রিচ পেইড প্রমোশনের সাথে বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।ফেসবুক পদ্ধতি বিভিন্ন প্রভাবক দ্বারা পরিচালিত হয়।আপনার বিজনেসের ভাল ফলাফলের জন্য সেই সকল নিয়ম অনুসরণ করুন যেগুলো এখন বিদ্যমান রয়েছে।

আপনি কি ভাবছেন?আপনি কি সেইসব পোস্ট গুলো প্রমোট করেছেন যেগুলোর অর্গানিক রিচ ভাল?আপনি কি এই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন?আপনার মতামত এবং প্রশ্ন কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

http://MakkiHosting.Com

My name is MD Omar Makki, I’m working as Web Developer/Designer, SEO (Search Engine Optimization), SMM (Social Media Marketing), SMO (Social Media Optimization), Hosting Provider, SMA (Social Management Account), Business Adviser, E-Commerce Business Developer from last 6 years.

Leave a Reply

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *