Bangla StoryStory (Writer)

প্লাটফর্ম নম্বর 7

জাহিদ আর অধরা দাঁড়িয়ে আছে (গন্তব্যটা বললাম না,কিছু কথা অজানা থাকাই ভালো)।
। । ।
অধরা রাগী রাগী ভাব নিয়ে অন্যদিকে ফিরে দাঁড়িয়ে আছে জাহিদ কথা বলার চেষ্টা করেও খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। 
। । । 
অধরা একদমই কথা বলছে না,কোন কথার উত্তরও দিচ্ছে না 
। । ।
একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে…………………….. 
জাহিদঃআচ্ছা,কি হয়েছে বলবেতো ! ! ! ! ! 
। । 
তাও কোন কথা বলে না অধরা। চেহারা দেখে মনেহয় রাগ আরো বাড়তেসে। 
। । । 
জাহিদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ………………… 
জাহিদঃ তুমি একটু দাড়াও,আমি আসছি। 
এবার চরম বিরক্তিতে কথা বলে উঠে অধরা। 
অধরাঃকোথায় যাও?? 
জাহিদঃএইতো সামনে।তুমি একটু দাঁড়াও। 
……… 
প্রচণ্ড রেগে যায় অধরা।রাগের কারনে দুই গাল লালচে আকার ধারণ করে ।চোখগুলো একেবারে সরু হয়ে যায়।ভ্রুগুলো কুচকে কাছাকাছি চলে আসে। 
অধরাঃ ও বুঝতে পারছি। 
সিগারেট খেতে যাবি,না ! ! ! ???? 
ওকে যা। আর কিন্তু আসবি না। একেবারে যা। 
। । । 
অধরার কথা শোনার পর “মিচকা একটা হাসি” দেয় জাহিদ ( এই শয়তানি হাসি অধরার কাছ থেকেই শেখা)।। জাহিদঃ কি যে বলো তুমি ! ! সিগারেট খেতে দূরে যেতে হয় নাকি ! ! ! এই দেখো, আমার সাথে সবসময় সিগারেট থাকে (বলেই সিগারেটের প্যাকেটটা অধরাকে দেখায়)। আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে না অধরা। ছোঁ দিয়ে জাহিদের হাত থেকে প্যাকেটটা নিয়েই আছাড় দিয়ে প্লাটফরমে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে সর্বশক্তিতে পিষতে থাকে। 
। । । 
ঘটনার আকস্মিকতায় তব্দা খেয়ে যায় জাহিদ। 
এত দ্রুত এত বড় একটা(বিষয়টা এমনিতে তুচ্ছ হলেও জাহিদের কাছে বিষয়টা আসলেই অনেক বড়,কারণ সিগারেট ওর সবথেকে প্রিয়)। । 
পরপর ৩টা বিট মিস করে জাহিদের হার্ট। জাহিদঃএটা কি করলা ! ! ! 
। 
অধরাঃভাল করসি ! 
জাহিদঃএটা না ফেলে যদি তুমি আমাকে ফেলে দিতে তাও আমি কষ্ট পেতাম না যতটা না এটার জন্য পেয়েছি 
। 
অধরাঃভাল হয়সে।কষ্ট শুধু তোমার লাগে ! ! আমার লাগে না ! ! ! 

জাহিদঃকেন ! ! ! আমি কি এমন ক্ষতি করেছি তোমার যে তুমি আমার এত বড় ক্ষতি করলে ! ! ! 
….. 
………… 
এই কথা বলার সাথে সাথেই ধুপধাপ কিল,ঘুসি পড়তে থাকে জাহিদের সারা শরীরে 
।গা বাঁচাতে অধরার নাগালের বাইরে দৌড় দেয় জাহিদ দূর থেকে বলতে থাকে অধরা………. 

অধরাঃকালকে রাতে কি কথা ছিল ?? আমাকে সকাল বেলা বাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা কার ছিল ??? 
। 
আস্তে আস্তে কাছে আসতে থাকে জাহিদ। 
……… 
জাহিদঃও আচ্ছা ! ! ! 
এই জন্যই এত কাহিনী ! ! ! 
এই জন্যই কথা বলো নি এতক্ষণ ! ! ! ফুলে বেলুন হয়ে ছিলে। 
আমি ওই দিকে যেতে চেয়েছিলাম একটা বেলুন আনতে। 
বেলুনটা ফুলিয়ে ফাটার আগেইতো তুমি ফেটে গেলে 
। 
আবার কিছু কিল,ঘুসি পড়ে জাহিদের উপরে। অধরাঃবল,কেন গেলি না আমাকে আনতে ! ! ! (কথা বলছে আর সমানে মেরে চলছে)। 
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মার খাচ্ছে জাহিদ। অধরাঃউফ ! ! কেমন বেহায়া ! ! মারতে মারতে আমার হাত ব্যথা হয়ে গিয়েছে তারপরও কথা বলে না। 
………… 
জাহিদঃকি বলবো?? কি বলার আছে আমার??? 
। । 
অধরাঃতুমি গেলে না কেন সকাল বেলা আমাকে আনতে।জানো,অনেক রাগ হয়েছিল তোমার উপর। 
রাগ করে যদি না আসতাম আমি ??? 
। । 
জাহিদঃআমি জানতাম তুমি আসবে। 
। । 
অধরাঃইশ……….. উনি জানতেন আমি আসবো!!!! কি আমার জ্যোতিষ রে ! ! ! 
এড দাও। 
“জ্যোতিষ রাজ ফটকা জাহিদ ” 
জাহিদঃতুমি আসতে। 
। । 
অধরাঃ এত কনফিডেন্সের সাথে কিভাবে বললে ?? 
। । 
জাহিদঃবললামতো। 
আমি জানি তুমি আসতেই। 
। অধরাঃযদি না আসতাম??? 
। 
জাহিদঃআসতেই। 
। 
অধরাঃধরো,যদি না আসতাম??? 
জাহিদঃ এখানে ধরাধরির কিছু নেই।তুমি আসতেই। 
অধরাঃবাহ,এত কনফিডেন্স ! ! ! 
জাহিদঃকনফিডেন্স না। 
অধরাঃতাহলে ! ! ! 
জাহিদঃভালবাসা। 
তুমি আসতেই 
Cause u love me…… 
। 
। । 
আবার রেগে যায় অধরা। 
। 
অধরাঃএই জন্যই তো তুমি আমাকে ব্ল্যাকমেইল করো। 
এই জন্যইতো তুমি Chance পেয়ে গেছো। 
এই জন্যইতো তুমি আমাকে আনতে যাও নাই। 
। 
। । 
জাহিদঃ দেখো, তুমি বুঝতেই চেষ্টা করতেসো না। 
অধরাঃথাক, আমার আর বুঝা লাগবে না (অভিমান করে বলে অধরা)। 
আমার বাসা কোথায়??? 
জাহিদঃআচ্ছাতোমার বাসা কই???? 
সেই (…………..পুর) (মিরপুর,আজিমপুর,সুত্রাপুর,ধলপুর,আজমপুর,মোহাম্মদ পুর যেকোন একটা মিলিয়ে পড়ে নিবেন)। 
আর আমার?? 
আমি যদি সকাল বেলা তোমাকে আনতে যেতাম তাহলে ভোর ৪.৩০টায় বাসা থেকে বের হতে হত। 
তাও হতাম যদি এত ভোরে রিকশা পাওয়া যেত। 
হেটে হলেও আসতাম যদি এত ভোরে ঢাকা শহরে ছিনতায়ের মত ঘটনা অহরহ না ঘটত। 
। । । 
★প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে এইভাবেই ‘ভালোবাসার ঝগড়া’ চলছিল জাহিদ আর অধরার মাঝে★ 
। 
দুইজনের কেউই খেয়াল করেনি তাদের এই ঝগড়াটা কাছ থেকে আরো একজন খেয়াল করছিলো। সেটা একজন বৃদ্ধা মহিলা। 
। 
। । 
হঠাৎ করে জাহিদ আর অধরার সামনে হাজির হলেন তিনি। 
হাত বাড়িয়ে কিছু সাহায্য চাইলেন তিনি। 
। 
। । 
“দানের ক্ষেত্রে অধরার হাত আবার বিশাল……………. 
। 
জাহিদ পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করতে করতেই অধরার কিছু টাকা বৃদ্ধাকে দিয়ে দিলো (কত দিলো সেটা বললাম না)। 
।। 
ট্রেন ছাড়তে তখনো প্রায় ৩০ মিনিট বাকি তাই আর ট্রেনে উঠার তাড়া নেই। 
প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলতে লাগলো দুইজন। 
। । 
হঠাৎ জাহিদ খেয়াল করলো বৃদ্ধা মহিলাটা ওদের পাশেই এখনো দাঁড়িয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে আর কথা শুনছে। 
। । 
জাহিদঃআপনি এখনো যাননি?? 
। 
বৃদ্ধাঃনা,বাবা।তুমরারে(তোমাদের) দেখতাসিলাম। 
। । 
এই কথা বলে অধরার দিকে তাকায় বৃদ্ধা। 
। । 
বৃদ্ধাঃতুমাগো (তোমাদের) দুইজনরে খুব সুন্দর মানায়সে। 
। 
। । 
ঘটনার আকস্মিকতায় অধরা আর জাহিদ দুইজনেই চমকে যায়। 
জাহিদই আগে উত্তর দেয়। 
জাহিদঃহয়েছে, আপনাকে আর হাওয়া দিতে হবে না। 
। 
। । 
বৃদ্ধার ভাব দেখে মনে হলো আরো কিছু বলতে চায়।কিন্তু জাহিদের কথা শুনে আর কিছু বলল না। 
চলে গেল চুপচাপ। 
কয়েকটা মিনিট জাহিদ আর অধরা দুজনেই কারো দিকে তাকালো না। 
কিছুক্ষণ পর………………………. ট্রেনের হুইসেল শুনে…………. 
জাহিদঃচল।উঠে পড়ো। 
। 
। । 
চুপচাপ ট্রেনে উঠে পড়ে অধরা।একটু পর ট্রেন চলতে শুরু করে।বৃদ্ধার কথা শোনার পর প্রায় ৩০ মিনিট কেটে যায় তাও তাদের মাঝে একটা বাক্যও বিনিময় হয়নি। 
। 
। । 
আসলে ওই কথার পর দুজনেই বাস্তব পরিস্থিতিটার কথা চিন্তা করে। 
বিশেষ করে জাহিদ……….. 
অধরা জাহিদের জন্য পারফেক্ট হলেও জাহিদ কখনো ছিল না,হতে পারেও নি। 
………….. 
বর্তমান সময়। 
অধরাঃকেমন আছো?? 
জাহিদঃতুমি আবারো ফোন দিসো ! ! আমাকে কি আমার মত থাকতে দিবা না ! ! ! । । 
ফোন কেটে দেয় জাহিদ………. 
এই মাত্র শেষ করা প্রায় নিভে যাওয়া আগুনটা থেকে আরেকটা ধরায়। ওই দিকে বেজে যাওয়া ফোনটার দিকে একটুও ভ্রুক্ষেপ নেই। 
। । । 
★ ★ ★ সময়ের সাথে সবকিছুই পরিবর্তিত হয়,পরিবর্তিত হয়না শুধু জাহিদের নিয়তি ★ ★ ★


সমাপ্ত……….

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!